মেটা ও মাইক্রোসফটে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মেটা মোট জনবলের প্রায় ১০ শতাংশ বা আট হাজার কর্মী ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং এ খাতের বিশেষজ্ঞদের পেছনে বিনিয়োগ বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময় আরেক প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফটও হাজার হাজার কর্মীর জন্য স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ বা ‘বাইআউট’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। খবর এপি।

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা সম্প্রতি জানিয়েছে, কর্মদক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি প্রায় ছয় হাজার শূন্যপদ আর পূরণ করবে না মেটা। ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ১৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। মূলত এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ এবং এ খাতের বিশেষজ্ঞদের পেছনে বিশাল অংকের বেতন দেয়ার কারণেই এ ব্যয় বাড়ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মেটা বর্তমানে এআই টুল ব্যবহার করে এমন সব কাজ স্বয়ংক্রিয় করার চেষ্টা করছে যা আগে বড় দলের প্রয়োজন হতো। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ছোট জনবল নিয়েও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে পারবে বলে আশা করছে।

অন্যদিকে মাইক্রোসফট সরাসরি ছাঁটাইয়ের পথে না গিয়ে ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮ হাজার ৭৫০ জন কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের প্রস্তাব দিচ্ছে, যা দেশটিতে তাদের মোট জনবলের প্রায় ৭ শতাংশ। মে মাসের শুরুতে এ প্রস্তাব দেয়া হবে বলে জানা গেছে। মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যোগ্য কর্মীরা যাতে নিজস্ব শর্তে এবং প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন, সেজন্যই এ কর্মসূচি।

মেটার মতো মাইক্রোসফটও তাদের ক্লাউড কম্পিউটিং ও এআই সিস্টেম পরিচালনার জন্য বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সাধারণ পদের চেয়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে প্রযুক্ত খাতের কর্মসংস্থানের চিত্র বদলে দিচ্ছে।

আরও